অযোধ্যা ফুটহিলস হোমস্টে
পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনে ও পর্যটকদের মনে পুরুলিয়া এক অন্যতম জায়গা নিয়েছে। প্রসঙ্গ যখন পুরুলিয়া পর্যটন তখন বাঘমুন্ডির নাম সর্বাগ্রে উচ্চারিত হয় কারণ অযোধ্যা পাহাড় সহ মূল পর্যটন স্থলগুলি বাঘমুন্ডি ব্লকেই অবস্থিত।
পুরুলিয়া জেলার দক্ষিণ – পশ্চিম সীমান্তে বাঘমুন্ডি অবস্থিত। বাগমুন্ডির উত্তর-পূর্ব দিকে রয়েছে অযোধ্যা পাহাড় ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কিছুটা জায়গা জুড়ে সুবর্ণরেখা নদী প্রবাহিত হয়েছে। সুবর্ণরেখা নদীর ঐ পাশ আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খন্ড। এছাড়াও বলরামপুর, ঝালদা, কোটশিলা, আড়শা হল বাঘমুন্ডির প্রতিবেশী ব্লক। পুরুলিয়া জেলা সদর থেকে বাগমুন্ডি আসার মূল রাস্তা হল বলরামপুর দিয়ে। বলরামপুর ব্লকের ডাভা গ্রাম পেরিয়ে শাখা নদী হল দুই ব্লকের সীমারেখা। আর সেখান থেকেই মাঠা জঙ্গল এলাকা শুরু হয়ে যাচ্ছে। দুই দিকে শাল গাছের জঙ্গল মাঝে কালো পিচের রাস্তা আর সামনে দণ্ডায়মান মুররা বুরু বা পাখি পাহাড়। রাস্তার সাথেই সমান্তরাল ভাবে চলেছে মাঠা পাহাড় বাগমুন্ডি পাহাড় ও অযোধ্যা পাহাড়। বলরামপুর থেকে বাগমুন্ডি পৌছাতে পৌছাতে আপনারা স্বপ্নে বিভোর হয়ে যাবেন।
বাগমুন্ডি পৌঁছানোর ঠিক ২ কিলোমিটার আগেই মুল রাস্তা থেকে বাঁ দিকে ৫০ পা হাঁটা পথে ভিতরে দু বিঘা জমির উপর চারদিকে গাছ-গাছালি দিয়ে ভরা এক মনোরম হোমস্টে যেন এক টুকরো গ্রাম। হোমস্টেতে রয়েছে পর্যটকদের থাকার ঘর। ঘরগুলি বাইরে থেকে গ্রামের ঘরের মতো মনে হলেও ভিতরে ছিমছাম, অ্যাটাচ বাথরুম, বাথরুমে কমোড, গিজার ইত্যাদি। রুমে আরামদায়ক বিছানা থেকে শুরু করে, টেবিল, চেয়ার, টি টেবিল, আয়না সব কিছুই আছে। গরমের সময় আসা পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে রুমে এসির ব্যবস্থাও আছে। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের জন্য হোম স্টের একদিকে রয়েছে হাউস টেন্ট এর মাটি থেকে দু ফুট উঁচু বেদীর উপর টেন্ট গুলি বসানো টেন্ডগুলোর উপরে বাঁশের কাঠামো বানিয়ে খড় দিয়ে ছাউনি করা। Tent এর পিছনেই অ্যাটাচ বাথরুম। হোম স্টে তে একদিকে কিচেন, ডাইনিং ও রিসেপশন বা অফিস। কিচেন ডাইনিং ছোট হলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। রিসেপশনে পুরুলিয়ায় আগত পর্যটকেরা যা যা চান কম বেশি ছবি রাখা আছে। হোম স্টের আর একদিকে সবজি বাগান কিচেন গার্ডেনও বলা যেতে পারে। সেখানে চাষ হচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালং শাক, গাজর, মুলো, আলু, পেঁয়াজ, ধনে পাতা ইত্যাদি। আর সেগুলি সকাল সকাল টাটকা সংগ্রহ করে হোম স্টের কিচেনে নিয়ে আসা হচ্ছে রান্নার জন্য। হোম স্টের প্রাঙ্গনে বড় লোহার দোলনা যা বয়স্ক থেকে বয়স্কা পর্যটকদের শিশুতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। শীতের সময় এলে হোম স্টের শেষ প্রান্তে ধানের খামার। সেখানে ধান ঝাড়াই ও সরাসরি দেখতে পাবেন। খাবার যেমন সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর তেমনি খাবারের মধ্যে পাবেন গ্রাম্য ফ্লেভার। একদিন দেশি চিকেন ও একদিন কচি খাসির মাংস ট্রাই করতেই পারেন। আপনার রুমের বাইরেই পাতা আছে খাটিয়া। সেখানে বসে দুপুর বা সন্ধ্যার আড্ডা জমবেই জমবে। আর আড্ডা মারতে মারতে একটু চা খাওয়ার মন হবেই সার্ভিসের ছেলেকে বললেই বেশ গরম গরম চা হাজির। হোমস্টে প্রাঙ্গনে বার্বিকিউ চিকেন আপনার ভ্রমণকে এক অন্য মাত্রা দিবে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শীতের দিনে আগুন পোহানো তারপর সেই আগুন জ্বলে শেষ হলে তার তাপে বার্বিকিউ চিকেন তৈরি হবে। তারপর পেঁয়াজ কুচি, লেবুর রস, ও সস দিয়ে আহা!।
আপনারা যদি ইচ্ছা প্রকাশ করেন একদিন ছৌ নাচ বা আদিবাসী নাচ দেখার তাহলে হোমস্টে প্রাঙ্গনেই নাচের দল এসে দেখিয়ে যাবে। নাচের দল ডাকা, নাচের আসর তৈরি করা সব হোম স্টে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। স্টেশন থেকে গাড়ি করে নিয়ে আসা অযোধ্যা ঘুরিয়ে আবার যথাসময়ে স্টেশনে পৌঁছে দেওয়া হোমস্টে কর্তৃপক্ষ খুব দায়িত্বের সঙ্গে করেন। অযোধ্যা পাহাড় সার্কিটের জনপ্রিয় 20টি পর্যটন স্থলগুলির মধ্যস্থলে অবস্থিত এই অযোধ্যা ফুট হিলস হোমস্টে টি।
পুরুলিয়ার সংস্কৃতি, জীবন যাপন, আচার ব্যবহার, পূজা পার্বণ মেলা উৎসব সবকিছুর সম্পর্কে জানতে পারবেন হোম স্টে কর্তৃপক্ষের সাথে আড্ডা মারলে।
সর্বোপরি পুরুলিয়ায় আপনার একজন বন্ধু তৈরি হবে।